সবথেকে সহজ উপায়ে ‘ভাপা পিঠা’ বানানোর রেসিপি। এইভাবে এই পিঠা বানালে মুখে এর স্বাদ লেগে থাকবে!

‘ভাপা পিঠা’! বাচ্চা থেকে বুড়ো, সবার খুব পছন্দের পিঠা এটি। নরম তুলতুলে খেজুর গুড় (Jaggery) ও নারকেলের পুর ভরা এই পিঠা খেতে অতীব সুস্বাদু (Delicious) অথচ ভীষণ সুস্বাদু এই পিঠা বানানোর সময় অসাবধানতাবশত কোনো ভুলচুকে সমস্ত পরিশ্রমটাই মাটি হয়ে যেতে পারে।

সেইজন্য আপনাদের জন্য আজ নিয়ে এলাম ‘ভাপা পিঠা’ তৈরির এমন এক প্রণালী যা ঠিকঠাক ভাবে মেনে এই পিঠা বানালে সেই পিঠা ভাঙবে তো নাই-ই, বরং এর স্বাদও দ্বিগুন হবে। আসুন দেখে নেওয়া যাক।

এই পিঠা বানানো একটু সময়সাপেক্ষ তাই তাড়াহুড়ো করে বানাতে গিয়ে অনেকেই এই পিঠা ভেঙে ফেলেন বা কোনোরকম গন্ডগোল করে ফেলেন। ‘ভাপা পিঠা’ বানাতে কিন্তু খুব সামান্য কিছু উপকরণ লাগে যা সাধারণের হাতের নাগালেই মেলে। আসুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক যে উপকরণ হিসেবে আমাদের কী কী লাগবে!

প্রথমেই বললাম যে এই পিঠা বাচ্চা থেকে বুড়ো সবার পছন্দের তাই সবার জন্যই বানাবো আজ আমরা ‘ভাপা পিঠা’।

উপকরণগুলি হলো-

১. তিনকাপ পরিমাণে চালের গুঁড়ো(Rice Powder)
২. পরিমাণমতো সামান্য লবণ(Salt)
৩. ছোট একবাটি খেজুর গুড়(Date Jaggery)
৪. ছোট এক বাটি মতো কোরানো নারকেল(Coconut)
৫. সামান্য পরিমাণে হালকা গরম জল(Lukewarm Water)
৬. একটি পাতলা সুতির কাপড়(Cotton Cloth)

প্রণালী:

ব্যস! উপকরণ তৈরি। এবার আমরা সঠিকভাবে এই পিঠা বানানোর প্রণালী আমরা শিখবো যাতে পিঠার স্বাদ দ্বিগুন বেড়ে যায়।
প্রথমেই একটি বড় বাটিতে সমস্ত চালের গুঁড়োটা (Rice Powder) নিয়ে খুব সামান্য পরিমাণে লবণ (Salt) মিশিয়ে নিতে হবে। এবার অল্পপরিমাণে কিছুটা গরম জল (Lukewarm Water) দিয়ে ভালোভাবে মেখে নিতে হবে। শুধু মেশানোর জন্য মাখতে হবে তাই বেশিক্ষণ ধরে মাখানোর প্রয়োজন নেই। মাখানো হয়ে গেলে ১৫-২০ মিনিটের জন্য ঢেকে রাখতে হবে মিশ্রণটি। এবার অন্য একটি বাটিতে খেজুর গুড় ও নারকেল কোরাটা নেবেন।

এরপর একটা অন্য বাটিতে সামান্য পরিমাণে স্বাভাবিক তাপমাত্রার জল নিয়ে ওই জলের মধ্যে একটি পাতলা সুতির কাপড় রেখে দেবেন। কাপড়টা হালকা ভেজানোর জন্য রেখে দেবেন।
এবার একটি ছোট বাটি নিয়ে নিয়ে নেবেন ‘ভাপা পিঠা’ বানানোর জন্য। ১৫-২০ মিনিট পেরিয়ে গেলে পাত্রের ঢাকা খুলে মিশ্রণটিকে আরো একবার মিশিয়ে নিয়ে একটা চালুনির সাহায্যে ছেঁকে নেবেন ভালো ভাবে যাতে সব চালের গুঁড়োটা (Rice Powder) মসৃণ পাওয়া যায় ও দলাপাকানো না হয়।

এবার পিঠা বানানোর জন্য যে বাটিটা নিয়েছেন সেটিতে অল্প পরিমাণে চালের গুঁড়ো নিয়ে তাতে একটু খেজুর গুড় দিয়ে ও অল্প পরিমাণে নারকেল কোরা দিয়ে আবারও একটু চালের গুঁড়ো দিয়ে দিতে হবে। এবার যে সুতির কাপড়টি হালকা ভেজানো হয়েছিলো সেটির সাহায্যে বাটিটাকে ভালো করে মুড়ে নিতে হবে।

এরপরে গ্যাসের ওপর একটি কড়াইতে কিছুটা পরিমাণ জল গরম করে তার ওপর একটা বড়ো ছাঁকনি (Strainer) বসিয়ে দিতে হবে। কড়াইয়ের পরিবর্তে হাঁড়িও ব্যবহার করতে পারেন আপনি। এবার ছাঁকনিটির ওপরে, কাপড়ে মুড়ে রাখা বাটিটা বসিয়ে দিয়ে কাপড়টা ছড়িয়ে দিতে হবে।

এরপর কাপড়টা পুনরায় মুড়িয়ে তার ওপর একটা ঢাকা দিয়ে দিতে হবে। এবার দুই থেকে তিন মিনিটের অপেক্ষা। তারপর ঢাকাটি খুলে দেখে নেবেন পিঠাটা ঠিকমতো হয়েছে কিনা।

পিঠা ঠিকঠাক হয়েছে মনে হলেই সাবধানে তুলে একটি পাত্রে রাখুন। ব্যস! হয়ে গেল আপনার, আমার ও সবার পছন্দের ‘ভাপা পিঠা’! নরম তুলতুলে এই পিঠা বাড়ির সবাই খেতে পছন্দ করবেই কথা দিলাম। তাহলে আর কি! আজই বানিয়ে ফেলুন সবার প্রিয় ‘ভাপা পিঠা’।

Leave a Comment